শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রবিবার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় রবিবার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লঘুদণ্ডের আবেদন করেন।

আরও পড়ুন:  এক নজরে স্কোয়াড্রন লীডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর বলেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্বপ্না আক্তার। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা এবং অন্যান্য প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ দাবি করে, মামলার বেশ কিছু আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। অপর আসামি সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

মামলার বিচারকালে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হলে ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করতে চান পাইলট

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুমের একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা পাওয়া যায়। ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার পর শিশু রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান আসামিরা। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপনের উদ্দেশে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:  ১৪৪ ধারা-অবরোধে থমথমে খাগড়াছড়ি

মামলাটির দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আগামীকাল বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *