দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমানোর পর আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর আগে বুধবার পর্যন্ত এই মানের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। স্থানীয় বাজারে অলঙ্কার তৈরির প্রধান উপাদান ‘তেজাবি’ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দর সমন্বয় করা হয়েছে বলে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকায় সোনার প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দামের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৭ thousand ৩৩১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বিক্রি হবে। সোনার মূল্যের পাশাপাশি বাজুস রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাধারণ ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও ৩ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই মূলত স্থানীয় বাজারে দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তনের মূল কারণ। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর থেকেই বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৫৩৭ মার্কিন ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে সোনার দাম এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে বর্তমানে বর্তমান অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে গত কয়েক মাস সোনার বাজারের জন্য এক ঐতিহাসিক সময় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে এক দিনেই ভরিপ্রতি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, যা এ দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম। তবে পরবর্তীতে কয়েক দফায় দাম কিছুটা কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে আবারও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতা ও অলঙ্কার ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎসবের এই মৌসুমে সোনার এমন লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি কেনাকাটার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য সোনার অলঙ্কার সংগ্রহ করা এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, তাঁরা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের দর পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেই অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করেন। ভবিষ্যতে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমে আসে, তবে স্থানীয় বাজারেও দ্রুত দাম কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস প্রদান করেছে।







