সাংবাদিক আনিস আলমগীরের স্থায়ী জামিন, বিদেশযাত্রার অনুমতি

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন স্থায়ী করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ জামিন স্থায়ী করার এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাঁর বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আনিস আলমগীরের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিন স্থায়ী করার আবেদনসহ তার বিদেশযাত্রার অনুমতি ও ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করেন। দুটি আবেদন মঞ্জুর করলেও ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানান, আজ মামলার ধার্য তারিখে আনিস আলমগীর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ২৮ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাঁকে এই মামলায় জামিন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  এই নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন : মির্জা ফখরুল

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ হিসাবে তাঁর ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

আরও পড়ুন:  দুবাইয়ে অর্থপাচারকারী ৭০ ‘ভিআইপি’ শনাক্ত, কর নথি তলব

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাবাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে উত্তরা থানায় দায়ের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হয়। ওই দিন আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গত ৫ মার্চ তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে দুদকের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১১ মার্চ দুদকের মামলায় আদালত তাঁকে জামিন দেওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

আরও পড়ুন:  ধেয়ে আসছে বৃষ্টিবলয়, সক্রিয় থাকবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *