বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সন্দ্বীপের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আবুল মহসিন তারেক (৪৮)। তিনি সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় দুইজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। সেখানে একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন তারা। এ সময় হামলার ঘটনাটি ঘটে।
দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগের দিন রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরেক বাংলাদেশি প্রাণ হারান।
জানা গেছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের উপর পড়লে আবুল মহসিন তারেক ঘটনাস্থলে নিহত হন।
তারেক ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি এবং নেপালের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রি, লেবানন ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। অধিকাংশ আহতের আঘাত সামান্য বলেও জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা অভিযান শুরু করে ইরান।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সময় কিছু ধ্বংসাবশেষ দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে, এতে কয়েকটি বেসামরিক সম্পত্তিতে মাঝারি মাত্রার ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে জনগণকে কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া এবং গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।







