আজ এক আলোকবর্তিকার জন্মদিন। এমন এক মানুষের জন্মদিন, যিনি জ্ঞানের দীপ্তি আর মানবিকতার মমতায় আলোকিত করে চলেছেন অগণিত হৃদয়। ড. সালেহা কাদের—নামটি আজ শুধু একজন শিক্ষাবিদের পরিচয় নয়; এটি এক স্বপ্নযাত্রার প্রতীক, এক নিরলস মানবসেবার অঙ্গীকার। রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেরি ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গড়ে তুলেছেন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এক আলোকিত ভবিষ্যতের বীজতলা। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা প্রজন্ম আজ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো। জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষালাভ তাঁর চিন্তাকে দিয়েছে গভীরতা, মননকে করেছে প্রখর, আর মানবিক বোধকে করেছে প্রসারিত আকাশের মতো উদার। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর অবিচ্ছেদ্য সম্পৃক্ততা সমাজকে করেছে সমৃদ্ধ।
সন্দ্বীপসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা, ক্যান্সার ও এসিডদগ্ধ নারীদের পাশে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসব উদ্যোগ তাঁকে দিয়েছে এক অনন্য মর্যাদা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারীই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে; তাই নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র সন্দ্বীপ ফ্রেন্ডস সার্কেল অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান উপদেষ্টা এবং ঢাকাস্থ বৃহত্তর মিরপুর সন্দ্বীপ সমাজ-এর সভাপতি হিসেবে তিনি সমাজ নেতৃত্বের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায়। শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ৩৫টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করে তিনি বয়ে এনেছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গৌরব।
ব্যক্তিজীবনে তিনি এক স্নেহময়ী জননী। তাঁর কন্যা ড. আফসানা আমিন শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁরই আদর্শ ধারণ করে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর পুত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুজাক্কির হোসেন খান মিশুর অকালপ্রয়াণের বেদনা তিনি রূপ দিয়েছেন শক্তিতে—মানবসেবার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন জড়িয়ে আছে সন্তানের স্মৃতি ও প্রেরণা।
তিনি চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের কৃতি সন্তান। তার পিতা একজন স্বনামধন্য ছিলেন। তার পারিবারিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ তাকে একটি সাম্য ও সুন্দর সমাজ গঠনে প্রেরণা জাগায়। আজ তাঁর জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষার্থী ও ভক্তদের একটাই প্রার্থনা—তিনি দীর্ঘায়ু হোন, সুস্থ থাকুন, এবং তাঁর মেধা, মনন ও মোহনীয় হাসির আলোয় সমাজ আরও আলোকিত হয়ে উঠুক। তাঁর পথচলা হোক অনন্ত প্রেরণার উৎস, তাঁর জীবন হোক মানবতার এক চিরসবুজ কাব্য।







