পদ্মা ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা ফেরত নেবে সরকার

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে জমা করা জনগণের অর্থ ফেরত পেতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে।’ আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিংয়ে রিজওয়ানা হাসান জানান, আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জমা করা জনগণের অর্থ ফেরত আনার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রোডম্যাপ তৈরি করবে। বেসরকারি ব্যাংকে জনগণের টাকা জমার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কিছু টাকা আছে এবং তারা তা স্থায়ী আমানত হিসেবে ব্যাংকে রাখে।  এই আয় দিয়ে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে।’

আরও পড়ুন:  অলিম্পিকের দ্রুততম মানব লাইলস
রিজওয়ানা বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তহবিল থেকে কিছু টাকা তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকে (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) জমা রেখেছিল।

ব্যাংকে জমাকৃত পরিমাণ এখন সুদসহ ৮৭৩ কোটি ৮১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৩ টাকার বেশি। কিন্তু বারবার দাবি করা সত্ত্বেও পদ্মা ব্যাংক টাকা ফেরত দিচ্ছে না।’  তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রতি বছর এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ) নবায়ন করছে। এখন ব্যাংক বলছে যে তারা ২০৩৮ সালের আগে অর্থ ফেরত দিতে পারবে না, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারও জানতে চাইবে যে, কেন মন্ত্রণালয়গুলো সরকারি টাকা বেসরকারি ব্যাংকে জমা করেছে।’  এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:  মধ্যরাতে ইলিশের অভয়াশ্রমে দুমাসের জন্য মাছ শিকার বন্ধ

…….ডিডিজে নিউজ/এম এফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *