দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে ১২০ বিলিয়ন ডলার উধাও

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ দুই মার্কেট থেকে মোট প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে।

চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট (ডিএফএম) জেনারেল ইনডেক্স প্রায় ১৬ শতাংশ এবং এডিএক্স জেনারেল ইনডেক্স প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।

এর মধ্যে দুবাইয়ের বাজার থেকেই প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে; আর আবুধাবি থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার মূলধন।উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কাতার-বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ কমেছে। তবে সৌদি আরব এবং ওমানের বাজারে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ফাইভ হান্ড্রেডের সূচকও প্রায় ৭ শতাংশ নেমে গেছে। যুদ্ধের সময়কাল ও লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:  ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত ও নিরাপদ আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি

যুদ্ধের কারণে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় আঘাত লেগেছে দেশটির পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে।

হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার বড় অংশই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম।

রাষ্ট্রীয় তথ্যমতে, গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের অবদান ছিল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন দুবাইয়ের অর্থনীতি (ফাইন্যান্স) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হায়থাম আউন এ ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেছেন, এই পতনকে কাঠামোগত সংকট হিসেবে না দেখে সাময়িক ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের মনোবলে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।

আরও পড়ুন:  ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

তিনি আরও বলেন, একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের মান নির্ধারিত হয় শুধু সংকটকালে বাজারের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, তারল্য ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে।

বিশ্বমানের তুলনায় আমিরাতের শেয়ারবাজার তুলনামূলক ছোট হলেও, অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে দেশটি আর্থিক খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে দেশটির তালিকাভুক্ত শেয়ারের মোট মূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয়।

সাম্প্রতিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারস ইনডেক্সে দুবাই সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এ পর্যন্ত তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান। ২০২৩ সালে ঘোষিত ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৩ সালের মধ্যে দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সৌদির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজা বুধবার

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব প্রফেশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক বার্ডিন হিকক মনে করেন, যুদ্ধের সমাধান হলে দুবাই ও আবুধাবির বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের অস্থিরতা অস্বাভাবিক নয় এবং বাজারের মৌলিক আকর্ষণ এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হিকক বলেন, প্রকৃত ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন নিয়ন্ত্রক কাঠামো বা মূলধন প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে; যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: আল জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *