যুদ্ধে না জড়াতে ইউরোপকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়াতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে তেহরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি ইউরোপের কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে শরিক হয়, তবে তেহরান তাকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করবে। বাঘাইয়ের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নিয়ে গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের ওপর আক্রমণকারী দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো ধরণের সহযোগিতা মানেই হলো আগ্রাসীদের সমর্থন দেওয়া। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি এ ধরণের কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান তা পাল্টাপাল্টি যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং উপযুক্ত জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।’ মূলত জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রেক্ষিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে।

আরও পড়ুন:  কমলা হ্যারিসই প্রেসিডেন্ট হবেন : বারাক ওবামা

উল্লেখ্য, গত রবিবার (১ মার্চ) ইউরোপের এই তিন প্রভাবশালী দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের কঠোর সমালোচনা করেছিল। সেখানে তারা জানিয়েছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে তারা প্রয়োজনে ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান যেভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে সংঘাতের বাইরে থাকা দেশগুলোও ইরানি হামলার শিকার হওয়ায় ইউরোপীয় শক্তিগুলো তেহরানের ওপর ক্ষুব্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বর্তমানে চরম উত্তপ্ত। ইরানের এই পাল্টা হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাত আর কেবল আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই বরং এতে পশ্চিমা বিশ্বও জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং ইউরোপের পাল্টাপাল্টি হুংকার বড় ধরনের বৈশ্বিক সংঘাতের বীজ বপন করছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই সংকট নিরসনে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *