সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শেয়ারবাজারে শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র, তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ অধিকাংশ খাতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়েছে।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে দুই ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান। প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর ফলে প্রধান সূচক প্রায় ১০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। এতে সার্বিক সূচকে বড় উত্থান দেখা যায় এবং লেনদেনও বৃদ্ধি পায়।
গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ২০০ পয়েন্ট বাড়লেও পরবর্তী চার কার্যদিবসে টানা দরপতন হয়। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক সামান্য বাড়লেও দাম কমার তালিকায় প্রতিষ্ঠান ছিল বেশি।
সোমবার বাজারে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। দিনের শেষে ব্যাংক খাতের ইতিবাচক প্রবণতা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, বস্ত্র ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সব সূচক উত্থান নিয়ে লেনদেন শেষ করে।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির। এর মধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বেড়েছে।
দাম বাড়ার তালিকায় থাকা ভালো ও লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও বেশিরভাগ ফান্ডের দাম বেড়েছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যেও অধিকাংশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূচকের হিসাবে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। এদিন বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৭১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। এরপর ব্র্যাক ব্যাংক এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট অবস্থান করে। শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল বিভিন্ন শিল্প ও ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক সূচক ১৪৭ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে লেনদেনের অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি পায়। বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।







