রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের রচিত ৬-৩ ভোটের রায়ে বিচারপতিরা নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন, যেখানে বলা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের আইনের প্রয়োগে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত রায় দেন, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) নামের সংশ্লিষ্ট আইন ট্রাম্প যে ক্ষমতার দাবি করেছিলেন, তা প্রদান করে না।
হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রক্ষণশীল বিচারপতিদের সমর্থিত এ নীতির মতে, সরকারের নির্বাহী শাখার ‘বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন’ পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। আদালত পূর্বে ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী পদক্ষেপ ঠেকাতে এ নীতি প্রয়োগ করেছিল।
রবার্টস লেখেন, যদি কংগ্রেস আইইইপিএর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে ‘স্বতন্ত্র ও অসাধারণ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা’ দিতে চাইত, তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করত—যেমনটি অন্যান্য শুল্ক আইনে নিয়মিতভাবে করেছে।
ট্রাম্প আমদানি পণ্যের ওপর কর বা শুল্ককে তার অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর যে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ তিনি শুরু করেন, তাতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় উপাদান।
ভিন্নমত পোষণ করেন তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট ক্যাভানাফ। রবার্টসের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে যোগ দেন রক্ষণশীল বিচারপতি নিল গরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেট—যাদের ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ দিয়েছিলেন—এছাড়া তিন উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন।
উদারপন্থী বিচারপতিরা ‘মেজর কোয়েশ্চনস’ নীতির উল্লেখ থাকা অংশে যোগ দেননি।
৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতাসম্পন্ন সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নিম্ন আদালতগুলো তার নীতিতে বাধা দিলে একাধিক জরুরি সিদ্ধান্তে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অধিকারী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক নীতির মাধ্যমে আগামী এক দশকে ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ ডিসেম্বরের পর থেকে শুল্ক আদায়ের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদরা শুক্রবার হিসাব করে জানান, আইইইপিএ-ভিত্তিক ট্রাম্পের শুল্ক থেকে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আদায় হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের পর ওই অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে।







